একই সঙ্গে বাজারে নতুন কোম্পানি আসার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি ও প্রক্রিয়াগত প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বিএপিএলসির প্রতিনিধি দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।
সভায় পুঁজিবাজারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ এবং দেশের বাজারে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনা প্রসঙ্গে বিএপিএলসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের অনেক ভালো কোম্পানিরই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে বিএপিএলসি এসব ভালো কোম্পানিকে বাজারে নিয়ে আসতে একটি সহায়ক ভূমিকা পালন করতে চায়। তবে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বর্তমানে যেসব সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা দ্রুত সমাধানের জন্য তারা বিএসইসিকে অনুরোধ জানায়।
সংগঠনটির এই প্রস্তাব ও অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসির পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কল্যাণের স্বার্থে সম্ভাব্য সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
সভায় বিএসইসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তানভীর হাবিব রহমান, কমিশনার নাহিদ মাহতাব ও মো. নাফিজ আল তারিক এবং কমিশনের নির্বাহী পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বিএপিএলসি-এর পক্ষে নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সভাপতি ও ন্যাশনাল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াদ মাহমুদ। এছাড়া সংগঠনটির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ এবং সেক্রেটারি জেনারেল মো. আমজাদ হোসেনও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
গতকালের পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি: গতকাল লেনদেনের শুরুর পর থেকেই উর্ধমূখী অবস্থানে ছিল পুঁজিবাজার। দিনশেষে ডিএসইএক্স সূচক ৪০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬৬১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ৬২২ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে প্রায় ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৪৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১১৩ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন ১৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ১৩৬ পয়েন্ট। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৯৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৬টির, কমেছে ১৮৫টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টির। গতকাল সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, রবি ও রেনাটার শেয়ার।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ ও রাসায়নিক খাত। ১২ দশমিক ৭ শতাংশ দখলে নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত। প্রকৌশল খাত ১১ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ৮ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল ব্যাংক খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা বিবিধ খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।
গতকাল ডিএসইতে মিউচুয়াল ফান্ডে সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া সিমেন্ট খাতে ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং টেলিযোগাযোগ খাতে ১ দশমিক ৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে গতকাল বিবিধ খাতের শেয়ারে ২ দশমিক ৬ শতাংশ, সেবা খাতে ২ দশমিক ১ শতাংশ এবং সিরামিক খাতে ১ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
সিএসইর নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৩৯০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ১০৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৩৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২৪৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০৮টির, কমেছে ১০৬টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির।